মিরসরাইয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

মিরসরাইয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক :::

কেউ এসেছেন হুইল চেয়ারের সঙ্গী হয়ে, আবার কেউ বা ক্রেচে ভর দিয়ে, অনেকে বয়সের ভারে নুয়ে পড়ে হার মেনেছেন বার্ধক্যের কাছে। এ গল্প মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ষাট-সত্তর দশকের বেশ ক’জন প্রবীণ নেতার। শুক্রবার (৫ জুলাই) দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের দিনে এখানকার ত্যাগী ও প্রবীণ ১২ নেতাকে সম্মাননা দেয় মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ।

সম্মাননা প্রাপ্ত নেতারা হলেন, মির্জা ফিরোজ, ছালেহ আহম্মদ কন্ট্রাক্টর, মাহবুবুল বশর, মনিরুল ইসলাম, আবুল বশর লাতু মিয়া, রবিউল হোসেন, আবু তাহের, শামসুল হুদা ভূঁইয়া, এমদাদুল হক ভূঁইয়া, সেকান্দর ভূঁইয়া, তাজুল ইসলাম ও একে এম নুরুল আলম।

ওইদিন মিরসরাই উপজেলা সেমিনার হলে বিকাল সাড়ে ৪টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। তিনি দলের সম্মামনা প্রাপ্ত নেতাদের ছাড়াও তাঁর বক্তব্যে সত্তর দশকের প্রায় অর্ধশত ত্যাগী নেতাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। এছাড়া তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বয়স সত্তর বছর আর এ দলের রাজনীতিতে আমার বয়স ৫০ বছর।

নিজের রাজনীতির শুরুর দিকের কথা তুলে ধরে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুুক্ত হই শ্রদ্ধেয় এম.এ আজিজের হাত ধরে। পরবর্তীতে তিনি যেকজন নেতার কাছে আমাকে পাঠিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম তৎকালীন আওয়ামী লীগের পরিশ্রমী নেতা মির্জা ফিরোজ। তারা তখন ঘরে ঘরে গিয়ে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করছিলেন। আজ তাদের সম্মাননা দিতে পেরে আমি ধন্য। পাশাপাশি আমি মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদেরও এ আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এছাড়া আমি আজ দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্মরণ করছি আমার চাচা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ ফজলুল হক বিএসসিকে। তিনি আমাকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’

চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আজকের আওয়ামী লীগ যারা একদিন প্রতিষ্ঠা করতে তৃণমূলে সাহায্য করেছিলেন তারা আজকে দল থেকে সম্মাননা পেয়েছেন। কারণ তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। একসময় তারা দলের দুঃসময়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে এ দলটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।’

মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান বলেন,‘আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজকের আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করে যারা এ পর্যন্ত আসতে সাহায্য করেছেন তারা হলেন আমাদের দলের তৃণমূলের এসব ত্যাগী নেতারা। আমরা কৃতজ্ঞতার জায়গা থেকে তাদের সম্মাননা দিয়েছি।’

মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে মাসব্যাপী দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে আমরা ষাট এবং সত্তর দশকের ত্যাগী ও গুরুত্বপূর্ণ ১২ নেতাকে সম্মানা দিয়েছি। তারা দলের দুঃসময়ে জনতার দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেছিলেন। ছয়দফা, গণ অভ্যত্থান এবং বাঙালীর মহান মুক্তিসংগ্রামে জনতাকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন তারা। তাই এ সম্মাননার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা একটি ম্যাসেজ দিয়েছি।’

সংবর্ধিত অতিথি মির্জা ফিরোজ সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতা সাহিত্যিক কাইয়ুম নিজামী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা ফিরোজ আমাদের সংগঠিত করতে দারুন ভূমিকা রেখেছিলেন। সেসময় আমরা ছাত্রনেতারা তাঁর কাছে গেলে তিনি প্রথম জিজ্ঞেস করতেন, ‘তোমরা খেয়েছ?’।

ওইদিন মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা কাইয়ুম নিজামী প্রমুখ। সবশেষে মিরসরাইয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১২জন প্রবীণ নেতার হাতে ফুল ও সম্মাননা ক্রেষ্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!