রূপসী ঝর্ণার পানিতে ডুবে পর্যটক নিহত

রূপসী ঝর্ণার পানিতে ডুবে পর্যটক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক :::

ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি মেহেদী হাসান প্রান্তের (২১)। মিরসরাইয়ে রূপসী ঝর্ণা দেখতে এসে পানিতে ডুবে তার স্বপ্নের শলিল সমাধি হলো। বৃহস্পতিবার (১৫ আগষ্ট) সকালে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বড় কমলদহ এলাকার রূপসী ঝর্ণা এরাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মেহেদী হাসান নাটোর জেলার নাটোর উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের মো. নুরুল আমিনের ছেলে। তারা চট্টগ্রাম শহরের কর্ণেলহাট প্রশান্তি আবাসিক এলাকায় থাকতো। প্রান্ত চট্টগ্রাম শহরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট টেকনোলজিতে সিভিল ডিপার্টমেন্টের ষষ্ঠ সেমিষ্টারের ছাত্র ছিলো।

মেহেদী হাসানের বন্ধু শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, রূপসী ঝর্ণা দেখার জন্য আমরা বৃহস্পতিবার সকালে ৬বন্ধু চট্টগ্রাম শহর থেকে আসি। ঝর্ণায় দ্বিতীয় স্তরে উঠে মেহেদী সহ আরো ২জন উপর থেকে পানিতে লাফ দেয়। এসময় ২জন উঠে গেলেও মেহেদী উঠতে পারেনি। সে মহুর্ত্বের মধ্যে পানিতে ডুবে যায়। আমরা অনেক চেষ্ঠা করেও তাকে পানি থেকে তুলতে পারিনি। এভাবে তাকে হারাতে হবে কখনো ভাবিনি।

মেহেদী হাসানের পিতা মো. নুরুল আমিন বলেন, মেহেদী গতকাল রাতে আমাকে বলে তারা বন্ধুরা সবাই মিলে রূপসী ঝর্ণা দেখতে যাবে। আমি নিষেধ করার পরও সে ঝর্ণায় যাওয়ার জন্য বায়না করতে থাকে। পরবর্তীতে আমি তাকে বলি যে ঝর্ণায় গেলেও পানিতে না নামার জন্য। যেন উপরে থাকে। আজ দুপুরে তার বন্ধুরা আমাকে মোবাইলে জানায় সে ঝর্ণা দেখতে গিয়ে পানিতে পড়ে গেছে। এখানে এসে দেখি আমার প্রান্ত পানিতে নিঁখোজ হয়ে গেছে। ডুবুরীর দল অনেক খোঁজার পর প্রান্তের নিথর দেহ পানি থেকে উদ্ধার করে। আমার সোনা মানিক কথা বলছেন না কেন; একথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইয়াছিন আরাফাত বলেন, রূপসী ঝর্ণায় পর্যটক ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় মেহেদী হাসানের লাশ উদ্ধার করা হয়। পানিতে ডুবে মেহেদী হাসানের মৃত্যু হয়। ৩ ঘন্টা পানিতে ডুবে থাকার পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। মেহেদী হাসানের লাশ সুরতহাল করে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!