যাকাত, সাদকায়ে ফিতর এবং ঈদুল ফিতর প্রসঙ্গ

যাকাত, সাদকায়ে ফিতর এবং ঈদুল ফিতর প্রসঙ্গ

সাইফুল হক সিরাজী:::

সদকা সমূহ একমাত্র প্রাপ্য ফকির ও মিসকিনদের, আর যে সকল কর্মচারী এসব সদকার কাজে নিয়োজিত এবং যাদের মন রক্ষা করা আবশ্যক এবং ক্রীতদাসদের মুক্ত করার জন্য এবং ঋণগ্রস্থদের ঋণ পরিশোদের জন্য মুজাহিদ ও মুসাফিরদের জন্য এ ব্যবস্থা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এবং আল্লাহ অতি জ্ঞানী, অত্যন্ত ব্যয় করা অসঙ্গত তা নিয়ে উত্তমরূপে অবগত আছেন, (সুরা তাওবা-আয়াত নং-৬০)।

উপরোক্ত আয়াতে যাকাত ব্যয়ের ৮টি খাতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লিখিত খাত ছাড়া অন্য কোথাও যাকাত দিলে তা আদায় হবে না। যাকাত ফরজ হওয়া সত্ত্বেও যদি যাকাত আদায় না করা হয় তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আজাব (সুরা তাওবা)
যাকাত আরবী শব্দ, অর্থ পবিত্র করা, বৃদ্ধি প্রাপ্ত হওয়া। যাকাত তার দাতাকে পাপ ও কৃপনতা থেকে পবিত্র করে। সম্পদের কিয়দংশ ব্যয় দ্বারা অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র হয়। যাকাত দ্বারা সম্পদের বরকত হয়, যাকাত প্রদানে সম্পদক হ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় যাকাতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য, এজন্যই ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রাঃ) যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছিলেন। যাকাত শুধু উম্মতে মুহাম্মাদীর উপর ফরজ করা হয়নি। পূর্ববতী নবীদের উম্মতগনের উপরও যাকাত ফরজ হয়। যথাযথভাবে যাকাত প্রদান না করার কারনে কেবল দরিদ্ররা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে না বরং সমাজ ও রাষ্ট্র কলুষিত হচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে সন্তাসসহ যাবতীয় অপরাধ। তাই যাকাত আদায়ে রাষ্ট্রীয় ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী।

সাদকায়ে ফিতর: যে ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ এমন ব্যক্তির উপর ঈদের দিন ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। ঈদের দিন সুবহে সাদেকের সময় ফিতরা ওয়াজিব হয়েছে। কেউ যদি সুবহে সাদেকের পূর্বে ইন্তেকাল করে তার ফিতরা আদায় করতে হবে না, পক্ষান্তরে ঈদের দিন সুবহে সাদেকের পূর্বে কেউ যদি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে কিংবা কোন শিশু জন্মগ্রহন করে তবে তার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতে হবে। প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একসের চৌদ্দ ছটাক বা এক কেজি সাড়ে ছয়শ গ্রাম গম বা আটা দ্বারা ফিতরা আদায় করতে হবে।

ইসলাম ধর্মে দুটি ঈদ নির্ধারিত হয়েছে। উভয় ঈদের দিনে মাহসামরোহে সমস্ত মুসলমানর একত্রিত হয়ে শোকর আদায়ের জন্য দু’রাকাত নামায পড়া ওয়াজিব। জুমু’আর নামাযের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে ঈদের নামযের জন্যও সেসব শর্ত জরুরী। তবে জুমু’আর নামাযে খুৎবাহ ফরজ, কিন্তু দু’ঈদের নামাযের খুৎবাহ সুন্নত।

ঈদুল ফিতরে সুন্নত : ১) শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে যথাসাধ্য সুসজ্জিত হওয়া (এবং আনন্দ প্রকাশ করা) (২) গোসল করা, (৩) মিস্ওয়াক করা (৪) যথাসম্ভব উত্তম কাপড় পরিধান করা (৫) অতি প্রতুষে বিছানা হতে গাত্রোখান করা (৬) ফজরের নামাযের পরেই অতি ভোরে ঈদগাহে যাওয়া (৭) ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে খোরমা অথবা অন্য কোন মিষ্টিদ্রব্য ভক্ষন করা (৮) ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায় করা (৯) ঈদের নামায মসজিদে না পড়ে ঈদগাহে পড়া (১০) ঈদগাহে এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া ও অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা (১১) ঈদগাহে পয়ে হেঁটে যাওয়া (১২) ঈদগাহে যাওয়ার সময় নিম্মস্বরে “ আল্লা-হু আকবর আল্লা-হু আকবর লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার আল্লা-হু আকবার ওয়ালিল্লা-হিল হাম্দ” তাকবীর বলতে বলতে যাওয়া।

ঈদুল ফিতরের নামায পড়ার নিয়ম: “ আমি ঈদুল ফিতরের দুই রাক’আত নামায ছয়টি ওয়াজিব তাকবীরসহ আদায় করছি” এরূপ নিয়্যাত করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত উঠিয়ে তাহ্রীমা বাঁধবে। তারপর সুবহানাক…………….. পুরা পড়বে। (কিন্তু আউযুবিল্লাহ ও বিসইমল্লাহ পড়বে না।) অতঃপর পর পর তিনবার ‘ আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবীর বলবে এবং প্রত্যেকবার দু’হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দেবে। প্রত্যেক তাকবীরের পর তিনবার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা যায় সমপরিমাণ সময় বিরতি দিতে হবে। তৃতীয়বারে তাকবীর বলে হাত না ছেড়ে বেঁধে নিবে। এরপর আউযুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়ে সূরাহ ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরাহ পাঠ করে অন্যান্য নামাযের ন্যায় রুকু-সিজদা আদায় করবে।

এরপর দ্বিতীয় রাক’আতে দাঁড়িয়ে সূরাহ ফাতিহা ও অন্য সূরাহ পড়ার সূরাহ পড়ার পর সঙ্গে সঙ্গে রুকুতে যাবে না; বরং উপরোক্ত নিয়মে আবার তিনবার তাকবীর বলেও হাত বাঁধবে না, বরং হাত ছেড়ে দেবে। এবং রুকুতে চলে যাবে।
ঈদের নামাযের পর ঈমাম সাহেব মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে দু’টি খুৎবাহ পাঠ করবেন। মাঝখানে জুমু’আর ন্যায় কিছুক্ষণ বসবেন। ইমাম সাহেব ঈদুল ফিতরের সম্পর্কিত আহ্কাম বয়ান করবেন।
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আয্হা-এই দুই ঈদের নামাযের কোন নামাযেই আযান বা ইক্বামত নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!