মোটেই অবাক হই না-শেখ আতাউর রহমান

মোটেই অবাক হই না-শেখ আতাউর রহমান

ফেসবুক থেকে ::
মোটেই অবাক হই না।
মানুষের চরম স্বার্থপরতায় অন্যের কৃতিত্বকে নিজের বলে চালিয়ে দেওয়া কিংবা নিজের ভূমিকাকে মূখ্য এবং একক বলে জাহির করা দেখে।
কারণ এরকম ঘটনা আমার জীবনে বহুবার ঘটেছে। স্থান -কাল- এবং অবস্থার বিবেচনার প্রতিবাদও করিনি কখনও।
৮ তারিখ সকাল ১০-৪০ মি: মোশাররফ ভাইয়ের নিজ খরচে (কোন কোটা নয়) হজ্বে পাঠানো হাজ্বীদের ফ্লাইট। ৫তারিখ শুক্রবার বাদজুমা বারৈয়ারহাট জামে মসজিদে ১০ জন হাজ্বীকে মোশাররফ ভাই কিছু নগদ টাকা সহ বিমানের টিকিট তাদের হাতে তুলে দিলেন। উপস্থিত ট্রাভেল এজেন্সির লোক জাকারিয়া হজ্ব এর নিয়ম- শৃংখলা উপরে কিছু পরামর্শ দিয়ে বললেন তিনি ৮তারিখ সকালে বিমান বন্দরে ১০টি পাসপোর্ট হাজ্বীদের হাতে পৌঁছাবেন। মোশাররফ ভাই সহ আমরা সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হলাম। কিন্তু ৮তারিখ সকালে ৮টায় ১৬ নং সায়েরখালি ইউনিয়নের হাজ্বী গনি মিয়ার ফোন পেয়ে যেন বজ্রাহত হলাম। তিনি বললেন ট্রাভেল এজেন্সির লোক জাকারিয়ার ফোন বন্ধ। আমাদের কি হবে???
অতঃপর ৮নং ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি সলিম এলাকার হাজ্বী সাহেবের সাথে এয়ারপোর্টে থাকায় জানালেন জাকারিয়া ফোন বন্ধ করে রেখেছে হাজ্বী সাহেবদের কি হবে?
আমি যার পর নাই বিচলিত হয়ে নুর খান কে ফোন করলাম কিন্তু তার ফোন বন্ধ পেলাম । অতঃপর সলিমের কাছ থেকে ট্রাভেল এজেন্সির সরবরাহ কৃত প্যাকেটে থাকা কতৃপক্ষের ফোন নাম্বার নিয়ে এজেন্সিতে ফোন করে জানলাম জাকারিয়া ২৩ লক্ষাধিক টাকা বকেয়া রেখে পাসপোর্ট নিতে চেয়েছিল।
আমি শুনে অবাক হলাম। কিন্তু বিষয়টা যে এরকম পরিস্থিতিতে গড়াবে তা খুনাক্ষরেও আমাদেরকে জানতে দেয়নি জাকারিয়া। তখন আমি এজেন্সিকে অনুরোধ করে বললাম যে, আমাদের কোন টাকা বাকি নাই । তবে তার যদি কোন বকেয়া থাকে সে বিষয়ে আমি সহ বসে পরে ফয়সালা করার দায়িত্ব নিলাম। এখন পাসপোর্ট গুলো হাজ্বীদের দিয়ে দিন। উনি বললেন, অন্য আর কোন কোন হাজ্বী সাহেবের টাকা বাকি আমরা না জেনে কিভাবে দিব। অবশেষে আমি তাকে অনেক চাপাচাপি করায় ৫টি পাসপোর্ট দিতে চাইলেন। শেষ পর্যন্ত অনেক অনুরোধ করে ১০জনের পাসপোর্ট দিতে রাজি করালাম। ততক্ষণে সাড়ে ৯টা বেজে গেছে। এজেন্সির লোক জানালেন এখন পাসপোর্ট নিয়ে রওনা হলেও সময় কাবার করা যাবে না। যদি আপনারা বিমান স্টেশন ম্যানেজারকে বলে ফ্লাইটের টাইম না পিছাতে পারেন।
আমি তৎক্ষনাৎ বিমান বন্দরের কর্মরত করের হাটের নিজাম কে অনুরোধ করলাম স্টেশন ম্যানেজারের সাথে আমাকে ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করতে। সে কর্মস্থানে না থাকায় আমাকে P A এর মোবাইল নম্বর দিল। P A কে বলার পর সে দয়া পরবশ হয়ে স্টেশন ম্যানেজার এর ব্যক্তিগত নম্বর দিয়ে আমাকে সরাসরি কথা বলতে বলল। অতঃপর স্টেশন ম্যানেজারকে ফোন করলে তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ফ্লাইটের সময় পিছাতে অপারগতা প্রকাশ করলেন। তখন আমি মোশাররফ ভাইকে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ফোন করতে অনুরোধ করলাম। তিনি আমাকে বিমানের উর্ধতন কর্মকর্তা, যিনি আমার বন্ধুবর, তাহের সাহেব কে ফোন করতে বললেন। অতঃপর তাহের সাহেব কে আমি ফোন করলে তিনি স্টেশন ম্যানেজার কে ফোন করলেন এবং আমাকে বললেন, যে কোন একজন হাজ্বীর মোবাইল নম্বর আমি যেন স্টেশন ম্যানেজার কে এসএমএস করে পাঠাই। এ ক্ষেত্রে আমি সলিমের ফোন নম্বর টি স্টেশন ম্যানেজার কে পাঠাই এবং সলিম কে স্টেশন ম্যানেজার ফোন করবে বলে জানালাম।
পাসপোর্ট নিয়ে কত দ্রুত পৌছাবে এজেন্সির লোক সে দিকে যোগাযোগ করা, বিশেষ করে জলাবদ্ধতা জনিত যানজটে আটকে থেকে কতক্ষণে পাসপোর্ট নিয়ে বিমান বন্দরে পৌঁছায় সে উৎকন্ঠা ছিল চরম।
এভাবে এক বসাতে তিন ঘন্টা উৎকন্ঠা ও উত্তেজনাময় তৎপরতা এবং পরম করুনাময়ের অশেষ রহমতে ১০-৫০ মিনিটে পাসপোর্ট বিমান বন্দরে পৌঁছালে হাজ্বী সাহেবরা বোডিং কার্ড পেলেন। এখানে একটি খুবই আফসোসের বিষয় হচ্ছে, জাকারিয়ার অধীনে আরও ৭জন হাজ্বী অপেক্ষা মান ছিল আমাদের এলাকার। তাদের বিষয়ে যদি একই সময়ে আমি জানতাম তাহলে সে পাসপোর্ট গুলো ও এজেন্সি থেকে দায়িত্ব নিয়ে বের করে নিতে পারতাম।

এযাবৎ ৫বার মোশাররফ ভাই এর ব্যাক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতায় দলের প্রবীণ ত্যাগি অসচ্ছল নেতাদের হজ্বে পাঠানোর ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রইলো।
এই জন্য মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

লেখক :::চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য ও মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমানের টাইমলাইন থেকে নেয়া।
সময় ৭টা। ৯ জুলাই ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!