বহিরাগত লোক এনে সিডিএর ব্যানারে ছালামের ‘বিদায়ী সংবর্ধনা’!

বহিরাগত লোক এনে সিডিএর ব্যানারে ছালামের ‘বিদায়ী সংবর্ধনা’!

মিরসরাইনিউজ ডেস্ক :::

টানা দশ বছর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় বেলায় ‘জনগণের’ ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন আবদুচ ছালাম। অপরিকল্পিত ফ্লাইওভার নির্মাণসহ নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত ছালামের মেয়াদ শেষ হল মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল)। এদিন বিদায়ী সিডিএ চেয়ারম্যান ছালামকে সিডিএ প্রাঙ্গনে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়। তবে নগরীর বিভিন্ন স্থান ও মোহরা থেকে গাড়ি করে লোক এনে সিডিএর ব্যানারে ‘সংবর্ধনা’ দেওয়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে মুখরোচক নানা প্রশ্ন। নগরীর বিভিন্ন স্থান ও মোহরা থেকে আসা লোকজন ও গাড়ির কারণে ব্যস্ততম কোতোয়ালী মোড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিডিএর ব্যানারে আয়োজিত ‘সংবর্ধনা’য় নগরীর কয়েকটি স্থান ও ছালামের নিজ এলাকা মোহরা থেকে শত শত লোক আসে মিছিল সহকারে। বক্তৃতায় একে ‘জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান’ বলা হলেও মূলত নিজেদের পারিবারিক পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত সামাজিক সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু ছাত্র যুব উন্নয়ন পরিষদের’ নেতাকর্মীরাই এ বিদায়ী সংবর্ধনায় আসে। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছালামের ছোট ভাই সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

জানা যায়, বিদায়ী সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন দুপুর ১টার পর। কিন্তু সকাল ১১টার পর থেকেই দলে দলে মিছিল সহকারে লোকজন আসতে থাকে কোতোয়ালী মোড়ে। সিডিএর অদূর থেকে শোডাউন সহকারে মিছিল নিয়ে সংবর্ধনাস্থলে প্রবেশ করতে গেলে কোতোয়ালীর মোড়ে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় যানজট সরাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকেও।

ছালামের বিদায়ী সংবর্ধনায় বেশিরভাগ লোকজন আসে তার নিজ গ্রাম মোহরা থেকে। তাদের সবাইকে ভাড়া করা গাড়িতে করে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসা হয়।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ‘বঙ্গবন্ধু ছাত্র যুব উন্নয়ন পরিষদের’ ব্যানারে মোহরা থেকে লোক আনার পাশাপাশি চান্দগাঁও ওয়ার্ড, ষোলশহর, পাঁচলাইশ ও দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড থেকেও বেশকিছু অনুগত কর্মীকে নিয়ে আসা হয় সংবর্ধনায়। পাঁচলাইশের যুবলীগ নেতা কফিল উদ্দিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সিডিএর তালিকাভুক্ত ঠিকাদার দেবাশীষ আচার্য্য, দেওয়ানবাজারের ফয়সাল বাপ্পীসহ মোহরা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ একাংশের কয়েকজন নেতার তত্ত্বাবধানে লোকজন আনা-নেওয়ার পুরো কাজটি সম্পন্ন করা হয়। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন নেতা জানান, মিছিলে আসা লোকজনকে ওয়েল ফুডের নাস্তা ও পানির পাশাপাশি বিরানির প্যাকেট সরবরাহ করা হয়।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘আজ থেকে ১০ বছর আগে এমন দিনেই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তখন সিডিএকে কেউ চিনতো না। আজ চোখ মেলে তাকালেই চট্টগ্রাম আজ উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় কোন পথে আছে সহজেই অনুমান করা যায়। চট্টগ্রামের উন্নয়ন আজ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হয় না। ঘর থেকে দুই পা ফেললেই দেখা যায়
চট্টগ্রাম উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। এতে আমার কোন ক্যারিশমা ছিল না। সব ক্যারিশমা বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার।’

‘জননেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামকে তাঁর দ্বিতীয় মাতৃভূমি হিসেবে মানেন। তাই তিনি ২০০৮ এর নির্বাচনের পূর্বে লালদীঘির ময়দানে ঘোষণা দিয়ে দীর্ঘকাল কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নবঞ্চিত চট্টগ্রামের উন্নয়নের ভার নিয়েছিলেন। তিনি তাঁর কথা রেখেছেন। তাঁর আন্তরিকতায় চট্টগ্রাম আজ স্বপ্ন ছোঁয়ার কাছেই অবস্থান করছে। এ দশ বছরে যে উন্নয়ন চট্টগ্রামে হয়েছে, একসাথে এত উন্নয়ন ছিল কল্পনারও অতীত।’

সিডিএ চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘করতে গেলে সুনামও হবে দুর্নামও হবে। তাই বলে ঘরে বসে থাকলে কাজ হবে না। চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে সিডিএ ঝুঁকি নিয়েছে। কতুটুক কাজ করতে পেরেছি সেটা মানুষ বিচার করবে। চট্টগ্রামের মানুষ জলাদ্ধতামুক্ত, যানজটমুক্ত শহর চায়। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম চায়। সেটাকে নিয়ে কাজ করে গেছি। ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবো। এ যাত্রা মসৃণ ছিল না। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আজকে সিডিএ স্বমহিমায় উদ্ভাসিত।’

সিডিএ সচিব তাহেরা ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সিডিএ বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন শাহ, কেবিএম শাহজাহান, গিয়াস উদ্দিন, হাসান মুরাদ বিপ্লব এবং এম আর আজিম। আরো বক্তব্য রাখেন সিডিএ’র প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান, প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, স্থপতি আশিক ইমরান, রুমানা নাসরিন চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রকৌশলী মোস্তাফা জামান।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!