দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ, জয়ের স্বপ্নে আনন্দে আফগানিস্তান

দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ, জয়ের স্বপ্নে আনন্দে আফগানিস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক :::

তৃতীয়দিনের শেষ বিকালে খেলার শেষ ঘন্টা বাকি। তার আগে দিনের শেষ ড্রিঙ্কস ব্রেকের সময় চলছে। বাংলাদেশ দলের পুরো এগারো জন মাঠের এককোনায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছেন। পুরো দলের চেহারা, নড়াচড়া ও শরীরি ভাষায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ঠ।

চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ এখন ক্লান্ত-শ্রান্ত এবং হতাশায় পড়া এক দল। আর অন্য দল আফগানিস্তান; টেস্ট জয়ের স্বপ্নে উজ্জীবিত, অনুপ্রাণিত। ম্যাচের তৃতীয়দিনও পার করলো আফগানিস্তান স্বস্তি নিয়ে। বাংলাদেশ দল যথারীতি আরেকবার ঝুলে যাওয়া কাঁধ নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরলো, মুখায়বে জুড়ে রইলো দুঃশ্চিন্তার ছায়া। যার আভিধানিক নাম-হারের আশঙ্কা!

চট্টগ্রাম টেস্টে তৃতীয়দিনের খেলা বৃষ্টির কারনে নির্ধারিত সময়ের মিনিট বিশেক আগে শেষ হয়। ততক্ষণে ম্যাচে আফগানিস্তানের লিড ৩৭৪ রানের। দিনটা শেষ করে তারা ৮ উইকেটে ৩৩৭ রান তুলে। বাংলাদেশের জন্য টার্গেট ইতিমধ্যেই অনেক বড় করে ফেলেছে তারা। এখন সেটাকে আরও সুস্বাস্থ্যবান করে তুলছে। এমন জায়গায় রান পৌছে দিতে যায় আফগানিস্তান- যে রান ছোঁয়ার কোনো সুযোগই যেন না পায় বাংলাদেশ!

ম্যাচ পরিস্থিতি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়- সেটা করে দেখালো আফগানিস্তান চট্টগ্রাম টেস্টে। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তাদের ব্যাটিংটা হলো প্রশংসা করার মতোই।
আর তাই ৪ রানে ২ উইকেট হারানো দল দিন শেষে ৮ উইকেটে ২৩৭ রান তুলতে পারলো। ভেঙ্গে পড়া ইনিংসকে কিভাবে পরিচর্যা করতে হয়। মেরামত করতে হয়-এই টেস্টে তারই উদাহরণ রাখলো আফগানিস্তান।

অথচ তারা খেলছে মাত্র তাদের ইতিহাসের তৃতীয় টেস্ট। আর এটি বাংলাদেশের ১১৫ নম্বর টেস্ট ম্যাচ!

অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তো বাংলাদেশেরই এগিয়ে থাকার কথা ছিলো। কিন্তু মাত্র দুই টেস্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে চট্টগ্রামে খেলতে নামা আফগানিস্তান যে কায়দায় এখন পর্যন্ত খেললো তাতে বরং বাংলাদেশকেই টেস্টে নবিশ মনে হচ্ছিলো!

আফগানিস্তান শুধু খেলছে না, শেখালোও অনেককিছু!

কখন কমপ্যাক্ট ডিফেন্স করতে হবে, কখন হাত খুলে খেলতে হবে- সেই সময়টা বুঝে নিয়ে খেলা আফগানিস্তান চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের ওপর ঠিকই ছড়ি ঘোরালো।

ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান ও আফগান আসগর হাফসেঞ্চুরি করলেন। রশিদ খান শেষের দিকে নেমে টি-টুয়েন্টি স্টাইলে ব্যাট চালালেন। ২২ বলে ২৪ রান করলেন রশিদ খান ৬ বাউন্ডারিতে। যার মধ্যে নাঈম হাসানের এক ওভার থেকেই তুলে নিলেন ৫ বাউন্ডারি!
উইকেটকিপার আফসার জাজাইও ধৈর্য্যশীল ভঙ্গিতে ৮৩ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!