ঘরে ঘরে গ্যাস বোমা !!!

ঘরে ঘরে গ্যাস বোমা !!!

মঈনুল হোসাইন টিপু :::

গ্রামাঞ্চলে খুব সম্ভবত এখন খুব কম ঘরই আছে যেখানে গ্যাস সিলিন্ডার নেই।আগে গ্রামে কাঠ,খড় আর লাকড়ি দিয়ে চুলায় রান্না হতো; এখন কি আর গৃহিনীদের আগুন ধরিয়ে,চুলায় ফু দিয়ে,ধোয়ার কুন্ডলিতে রান্না করার সে সময় আর ধৈর্য আছে? সময় বাঁচানোর জন্য হোক আর ঝামেলা এড়ানোর জন্য হোক কিংবা জরুরি প্রয়োজনে- একটা গ্যাসের চুলা থাকা চাই-ই। এটি যতটানা নিতান্ত প্রয়োজনের তারচেয়ে বেশি এই ধারণার জন্য ‘ওর ঘরে তো আছে,আমার ঘরে নাই কেন? ওটায় রান্না করি আর না করি অন্তত শোভা বর্ধনের জন্য হলেও আনা চাই।

আমি আবার এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজনীয়তার বিপক্ষে নই। কিন্তু মুশকিল হলো, ইদানীং গ্রামাঞ্চলে যতগুলো অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে কিংবা অগ্নিকান্ডের পরে আগুনের মারাত্মক রুপ ধারণ করছে এবং প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তার বেশির ভাগের মূল কারণ এ গ্যাস সিলিন্ডার। এমন না যে গ্যাসের চুলোয় রান্না করার আগে আগুন লাগতো না কিংবা লাগেনি।দূর্ঘটনা নিতান্তই দূর্ঘটনা কিন্তু কিছু দুর্ঘটনা আমরা সাবধানতা অবলম্বন করলে ঘটার সম্ভাবনা থাকেনা।

সমস্যা হলো গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার,বিপনন,বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই কিন্তু এটি কিভাবে সতর্কতার সাথে রাখতে হবে,ব্যবহার করতে হবে সেটি গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষেরই অজানা।সামান্য অসতর্ক হলে এর মাধ্যমে যে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে তার জ্ঞান অধিকাংশ মানুষের নেই।

আমরা এর ব্যবহার শিখেছি কিন্তু সঠিকভাবে ব্যবহার শিখিনি।এটি দিয়ে রান্না করতে পারি কিন্তু কোন সমস্যা হলে প্রাথমিকভাবে কিভাবে সেটি ঠিক করতে হবে কিংবা বিস্ফোরণের আশংকা থাকলে কি করতে সেটি জানিনা।

এজন্য এটি ব্যবহারের আগে এর নিরাপত্তার দিকগুলি আগে শিখে নিতে হবে।অনেক বড় বড় কোম্পানীগুলো এলপিজি গ্যাসের ব্যবসার সাথে জড়িত। কিন্তু তাদের এ সম্পর্কিত কোন প্রচারণা দেখিনা।দেখিনা ফায়ার সার্ভিস অথরিটির সচেতনতামূলক কার্যক্রম।

এটি খুব হতাশার।আমার মনে হয় এলপিজি কোম্পানীগুলো আর ফায়ার সার্ভিস অথরিটি মিলে গ্রামে গ্রামে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা উচিত,হাতে কলমে সবাইকে শেখানো উচিত কিভাবে এটি ব্যবহার করতে,কিভাবে দূর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যাবে।

গ্রাম নিয়ে এখনো গর্বের কিছু যদি থাকে তবে একটাই- একজনের বাড়িতে আগুন লাগলে সবাই মিলে ঝাপিয়ে পড়া।বালতির মাধ্যমে পানি দিয়ে আগুন নেভানো।কিন্ত সাম্প্রতিক সময়ে আমার বেশ কয়েকটি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে দেখেছি একমাত্র গ্যাস সিলিন্ডারের কারণে মানুষ খুব অল্পতে এখন আর আগুন নেভাতে সক্ষম হয়না।আবার সামনে গিয়ে নেভাতেও ভয় পায় কখন না আবার এটি বিস্ফোরিত হয়!

আমার মনে হয়, গ্যাস সিলিন্ডার নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। ওই ঘরে আছে আমার ঘরে নাই বলে মান কমে গেলো এই ধারণা থেকে বের হওয়া উচিত।আর ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

মনে রাখতে হবে ১২ কেজি ওজনের বিশাল বোমা কিন্তু ঘরের ভেতরেই। সেটি নিয়ে সাবধান থাকা চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!