কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর গ্রেফতার ৪ হাজার

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর গ্রেফতার ৪ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :::

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনসহ নানা সুবিধা বাতিলের পর সেখানকার বাসিন্দাদের বিক্ষোভ-আন্দোলনের আশঙ্কায় প্রায় চার হাজার জনকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। হাজার হাজার সেনা মোতায়েন এবং কারফিউর মধ্যেই এই কাশ্মীরিদের গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দি করা হয়েছে।
কাশ্মীরে দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ম্যাজিস্ট্রেট বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, বহুল সমালোচিত জননিরাপত্তা আইনের আওতায় চার হাজার কাশ্মীরিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিতর্কিত এই আইনের আওতায় কোনো ধরনের অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই কর্তৃপক্ষ যে কাউকে ধরে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্তও কারাবন্দি রাখতে পারে।

এএফপির খবর মতে, গ্রেফতার বেশিরভাগ কাশ্মীরিকেই অন্য রাজ্যের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণ কাশ্মীরের কারাগারগুলো আগে থেকেই ভর্তি ছিল, নতুন করে ধরপাকড় শুরু হওয়ার পর সেখানে ঠাঁই হচ্ছিল না।

এক্ষেত্রে কাশ্মীরের আশপাশের অনেক রাজ্যের কারাগারেই আগে থেকে ‘বিশেষ প্রস্তুতি’ দেখা যায় বলে জানা গেছে।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদায় সংবিধানে রাখা ৩৭০ অনুচ্ছেদ সম্প্রতি বাতিল করে দেয় নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার। এর জেরে গত ৫ আগস্ট থেকে অবরুদ্ধ ওই উপত্যকা। অনুচ্ছেদটি বাতিলের আগে নাটকীয় কায়দায় অঞ্চলটিজুড়ে সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। বন্দি করা হয় সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ওমর আব্দুল্লাহসহ মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতাকে। ইন্টারনেট, ক্যাবল নেটওয়ার্কসহ যাবতীয় সব যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কারফিউ জারি করে রাস্তায় রাস্তায় সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয় সশস্ত্র বাহিনী।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকরা চলে যাওয়ার সময় উপমহাদেশ ভাগ হয়ে গেলে তখন কাশ্মীরের শাসকরা বিশেষ শর্তে ভারতে যোগ দেন। সেই শর্তটিই ৩৭০ অনুচ্ছেদ আকারে সংবিধানে সংরক্ষিত ছিল। এই অনুচ্ছেদের আওতায় কাশ্মীর আলাদা সংবিধান ও পতাকার স্বাধীনতা ভোগ করতো। এমনকি সেখানে সরকারি চাকরি, জমি কেনা এবং ব্যবসা করার সুযোগটিও ছিল কেবল কাশ্মীরিদের জন্যই। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল করায় এখন এসব অধিকার বঞ্চিত হবে কাশ্মীরিরা।

ওই ঘটনার পর নয়াদিল্লির সংবাদমাধ্যম কাশ্মীরে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক বললেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, রাস্তায় রাস্তায় সশস্ত্র বাহিনীর টহল সত্ত্বেও বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ-আন্দোলন হচ্ছে। এসব বিক্ষোভ-আন্দোলনের খবর প্রচারেও কড়াকড়ি দেখা যাচ্ছে কাশ্মীরে।

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অবরুদ্ধ কাশ্মীরে সংবাদকর্মীরা চরম দুর্ভোগের কথা জানাচ্ছেন স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে। তারা বলছেন, টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় একপ্রকারে মুখ বন্ধ গণমাধ্যমের। কাশ্মীরের খবর বাইরে পাঠানো বা বাইরের খবর ভেতরে পৌঁছানোর কার্যত সব দরজাই বন্ধ। এরমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একটি মিডিয়া সেন্টার খোলা হলে কিছুটা আশার আলো দেখতে পান গণমাধ্যমকর্মীরা। কেন্দ্রের চারটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল ফোনই খবর পাঠানোর একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠে তাদের কাছে। তবে, শত শত সাংবাদিকদের জন্য এ সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। তাছাড়া, ইন্টারনেটের গতিও অতিমাত্রায় কম। একটি সাধারণ ফাইল আপলোড হতে সময় নেয় ঘণ্টাখানেক। তার ওপর মরার উপর খাঁড়ার ঘা- দু’টি কম্পিউটার বেশিরভাগ সময় দখলে রাখছেন সরকারের তথ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। যে সাংবাদিকরা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন সেখানে, এদের বেশিরভাগই সরকারপন্থি বলে পরিচিত।

এরমধ্যেই রোববার (১৮ আগস্ট) এএফপি জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর টিয়ার গ্যাসে শ্বাসরোধে এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন। সিদিক খান (৬২) নামে ওই ব্যক্তির ভাতিজা মুদ্দাসির আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তারা (নিরাপত্তা বাহিনী) প্রথমে দোকান-পাট চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। তিনি যখন দেখতে এলেন, তখন তারা টিয়ার গ্যাস ছোড়ে, এতে শ্বাসরোধে তিনি মারা যান।’

অবরোধের প্রথম দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়ায় এক কিশোর ঝিলম নদীতে পড়ে মারা যায় বলেও জানায় সংবাদমাধ্যম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ ধরনের খবর চেপে গেলেও পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, কাশ্মীরে যা ঘটছে তার সিকিভাগও প্রকাশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!