আ’লীগের কাউন্সিলে তৃণমূলের ভাবনা ‘জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ায় আস্থা রাখা যায়’

আ’লীগের কাউন্সিলে তৃণমূলের ভাবনা ‘জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ায় আস্থা রাখা যায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক :::

‘রাজনীতিতে আস্থা ও বিশ্বাসের বড় সংকট। তাই এবার দলের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ায় আমরা আস্থা রাখতে চাই।’

আগামী ১৬ নভেম্বর মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া সম্পর্কে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব মন্তব্য করছেন।

মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা মিরসরাইনিউজ ডটকমকে বলেন, একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া সবসময় দলের বিশ্বস্ত হিসেবে নিবেদিত প্রাণ। দল থেকে তাঁর পাওয়ার কিছু নেই। তিনি দলকে দেবার অনেক কিছুই আছে। যা তিনি গত দেড় যুগেরও বেশি সময় দলকে দিয়ে এসেছেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের অভিভাবক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য, মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তাঁর নিজ এলাকা ধুম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাথে একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়াকে যুক্ত করে স্থানীয় রাজনীতিকে দুর্বত্তায়নের হাত থেকে রক্ষা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে তিনি প্রত্যক্ষ ভোটে ধুম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তাঁর দায়িত্ব পালন কালে ২০০৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থ মন্ত্রী শাহ এসএম কিবরিয়াকে নির্মমভাবে খুন করা হলে স্থানীয়ভাবে তিনিই প্রথম প্রতিবাদ করেন। ওইসময় বিএনপি জামায়াত জোটের লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং তিনি গুরতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

দীর্ঘ ১০ বছর সফলতার সাথে ধুম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে সমগ্র উপজেলা রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে দলের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে আবারো প্রত্যক্ষ ভোটে ধুম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এবারও সফলতার ফুলঝুরি তাঁর হাতে। দীর্ঘ ৭ বছর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দলের দায়িত্ব পালন করে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের আস্থার স্বর্ণ শিখরে পৌঁছান।

এদিকে ২০১১ সালে ধুম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দল থেকে একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরবর্তী মরহুম তারেক ইসমত জামশেদী দল থেকে নির্বাচন করে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০১৬ সালে আবারো দল থেকে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচনে মনোনয়ন পান। অবশ্য সেবার তাঁর নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশ তিনি উপেক্ষা করতে পারেন নি। পরবর্তীতে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

পারিবারিক জীবনে একেএম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া অত্যন্ত সুখি একজন মানুষ। সাত ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ সন্তান। পেশায় তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাঁর বাবা মরহুম নজির আহম্মদ ভূঁইয়া ছিলেন একজন চাকুরীজীবি। তাঁর জন্মস্থান মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!