আফগান ইতিহাসের প্রথম টেস্ট শতক হাঁকালেন রহমত শাহ

আফগান ইতিহাসের প্রথম টেস্ট শতক হাঁকালেন রহমত শাহ

দ্বিতীয় সেশনটি ছিল শুধুই আফগানিস্তানের

জহুর আহমেদ স্টেডিয়াম থেকে :::

ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। আফগানিস্তানের টেস্ট ইতিহাসের প্র্রথম সেঞ্চুরি যে রচিত হলো সাগরপাড়ের এই স্টেডিয়ামে। যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের নাম ভুলতে পারবেন না আফগানিস্তানের ক্লাসিক্যাল ব্যাটসম্যান রহমত শাহ। আফগানিস্তানের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরিয়ার হওয়ার কীর্তিটা যেনো লেখা ছিলো তার জন্যই। তাই তো দুইবার সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ব্যর্থ হওয়ার পর, সেই রহমত শাহই হলে আফগানদের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান। টেস্ট ক্রিকেটে টানা তৃতীয় পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসটিকে তিনি রুপ দিলেন প্রথম সেঞ্চুরিতে। গত মার্চে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম জয় পেয়েছিল আফগানিস্তান। ৮ উইকেটের সে জয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিলো ডানহাতি টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান রহমত শাহর। দলের প্রথম টেস্ট জয়ের ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনিই।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে মাত্র দুই রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত ৯৮ রানের মাথায় প্লেইড অন হয়ে ফিরেছিলেন সাজঘরে। পরে দ্বিতীয় ইনিংসেও সাবলীল ব্যাট করে আউট হন ৭৬ রান করে। তবে এবার আর হতাশায় পুড়তে হয়নি ২৬ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যানকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে এসে জাদুকরী তিন অঙ্কের দেখা পেয়ে গেলেন রহমত শাহ। আফগানিস্তানের পক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে, দেশটির ক্রিকেটের ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেলেন তিনি।

ইনিংসের ১৩তম ওভারে ইহসানউল্লাহ জানাতের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন রহমত। ধীর-মন্থর উদ্বোধনী জুটিকে বেগবান করেন প্রতি ওভারেই সিঙ্গেলস-ডাবলস নেয়ার মাধ্যমে। সাকিব আল হাসানের করা ২৪তম ওভারের চতুর্থ বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে বিশাল এক ছক্কার মারে নিজের কর্তৃত্বের জানান দেন তিনি।

এরপর দায়িত্বশীল ব্যাটিংইয়ের সঙ্গে একের পর এক বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দিশেহারা করে দেন বাংলাদেশের বোলিং পরিকল্পনাকে। টাইগার অধিনায়ক সাকিব বারবার বোলার পরিবর্তন করেও কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেননি দলের জন্য। উল্টো আসগর আফগানকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় সেশনের পুরোটা সময় কাটিয়ে দেন রহমত শাহ।

এ সময়ে ৩৫.২ ওভার খেলে ১১৪ রান যোগ করেন রহমত ও আসগর। কিন্তু অল্পের জন্য আটকে যায় রহমত শাহর সেঞ্চুরি। চা বিরতি পর্যন্ত ১৮০ বল খেলে ৯ চার ও ২ ছয়ের মারে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন রহমত, সঙ্গী আসগরের রান তখন ৪৮। তবে বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারেই নাঈম হাসানের অফস্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি থার্ডম্যান দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিতে সেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। নিজের ক্যারিয়ার ও আফগানিস্তানের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করতে ১৮৬ বল খেলেন তিনি, হাকাঁন ১০টি চার ও ২টি ছক্কা।

সেঞ্চুরি করে অবশ্য আর এগুতে পারেননি তিনি। ঠিক পরের বলেই স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য সরকারের ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন রহমত শাহ। মাঝখানে দু’বল পর একই ওভারে আবারও আঘাত হানেন নাঈম হাসান। মোহাম্মদ নবীকে শূন্য রানে বোল্ড আউট করে দেন চাটগাঁর এই তরুণ।

টেস্টে একদিনে যেই তিন সেশন খেলা হয় তার প্রতিটি সেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা খুিই গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম সেশনটি নিজেদের করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চে যাওয়ার আগে আফগানিস্তানের তিন উইকেট তুলে নিয়ে দলকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন তাইজুল ও মাহমুদুল্লাহ।কিন্তু লাঞ্চের পরের সেশনটি শুধুই নিজেদের করে নেন আফগান দুই ব্যাটসম্যান রহমত শাহ ও আসগর আফনান।

৩৫.২ ওভারে ১১৪ রানের জুটি গড়ে দ্বিতীয় সেশনটি পার করেন এই দুজন। দলের রান নিয়ে যান অনেকটা কাঙ্ক্ষিত লক্ষে। ৬৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান। ১৮০ বলে ৯ চার আর ২ ছয়ে ৯৭ রানে অপরাজিত থেকে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রহমত শাহ। এর আগে নিজের দ্বিতীয় টেস্টে (আফগানিস্তানেরও দ্বিতীয়) আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৯৮ রান ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৬ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন। অপর ব্যাটসম্যান আসগর আফগান অপরাজিত আছেন ৪৮ রানে। অপেক্ষায় আছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধ শতকের। এর আগে তিনিও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা পেয়েছিলেন।

এই রিপোর্ট লেখার সময় আফগানদের সংগ্রহ ৮৭ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে২৫৫ রান। ৭৭ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন আসগর আফনান, তার সাথে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন আফসার জাজাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!